বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯

ফোন হারিয়ে গেলে কি করবো? মোবাইল হারিয়ে গেলে করণীয় কি? বা চুরি হয়ে গেলে?

অনেকের #অ্যান্ড্রয়েড ফোন হুট করে হারিয়ে
যেতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা
মূল্যবান তথ্য সুরক্ষায় দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তা
না হলে স্মার্টফোন কোনো দুর্বৃত্তের হাতে
পড়লে হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই
স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সেটি
খোঁজার পাশাপাশি গুগলের সাহায্য নিতে পারেন।
জেনে নিন ফোন হারানোর সঙ্গে সঙ্গে যা
করবেন:
*অন্য কোনো স্মার্টফোন বা পিসি থেকে
গুগলে ফাইন্ড মাই ফোন (Find my phone) লিখুন।

*গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইনইন করুন। যে ফোন
হারিয়েছে সে ফোনে ব্যবহৃত গুগল অ্যাকাউন্ট
দিয়ে সাইনইন করতে হবে।

*গুগল আপনাকে আপনার ডিভাইসের সর্বশেষ
অবস্থান জানিয়ে দেবে।

*আপনার ফোনের অবস্থান শনাক্ত হলে আপনি তা
দূরে থেকে কল দিতে পারেন। এ জন্য প্লে
সাউন্ড অপশনে ক্লিক করতে হবে। ফোন
সাইলেন্ট বা ভাইব্রেট মোডে থাকলেও এতে ৫
মিনিট পূর্ণ ভলিউমে শব্দ হবে। অবশ্য যদি ফোনটি
চুরি হয়ে থাকে তবে শব্দ না করে দূর থেকে
ফোন লক করে দিতে পারেন।

ফোন লক করতে হলে:
*আপনি যদি হারানো ফোনটি দূর থেকে লক
করতে চান তবে আপনাকে শুরুতে অন্য ফোন
থেকে android.com/find এখানে যেতে হবে।
এতে হারানো ফোনে ব্যবহৃত গুগল অ্যাকাউন্ট
দিয়ে সাইন ইন করতে হবে।

* আপনি যদি একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করে থাকেন
তবে যে ডিভাইসটি হারিয়েছে তা নির্বাচন করতে
হবে। একাধিক প্রোফাইল থাকলে মূল প্রোফাইল
ব্যবহার করে তাতে সাইনইন করতে হবে।

* ডিভাইস খুঁজে পাওয়া না গেলেও এর সর্বশেষ
অবস্থান আপনি জানতে পারবেন।

* এখানে আপনি Enable lock & erase অপশনে
ক্লিক করে ফোনে লক করে দেওয়ার সুবিধা
পাবেন। চাইলে ফোনে আপনার পছন্দের
পাসওয়ার্ড, প্যাটার্ন লক দিতে পারবেন। লক স্ক্রিনে
বার্তা বা ফোন নম্বর দেখাতে পারবেন।

* মুছে ফেললে আপনার ডিভাইসে যত ডেটা
আছে তা মুছে যাবে। কিন্তু এসডি কার্ডের তথ্য
মুছবে না। তবে তথ্য মুছে দিলে ফাইন্ড মাই ডিভাইস
অপশনটি আর কাজ করবে না।

মনে রাখতে হবে, Find my phone অপশনটি
কেবল ফোন চালু থাকলে এবং তাতে ইন্টারনেট
সংযোগ চালু থাকলে তবেই কাজ করবে। তাই যাঁরা
হুটাহাট ফোন হারিয়ে ফেলেন তারা গুগল অ্যাকাউন্ট
দিয়ে ফোনে লগইন করার পাশাপাশি ইন্টারনেট
সংযোগের আওতায় থাকবেন। লোকেশন ও
ফাইন্ড মাই ডিভাইস অপশন চালু রাখবেন।

শনিবার, ১ জুন, ২০১৯

এক হাজার বছরের চেয়েও উত্তম আজকের এই রাত।

রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস, শবে কদর কোরআন নাজিলের রাত। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার জাবালে রহমত, তথা হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল (আ.)–এর মাধ্যমে বিশ্ব নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল–কোরআন অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারিরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মাহাত্ম্যপূর্ণ রজনীতে। আপনি কি জানেন মহিমাময় রাত্রি কী? মহিমান্বিত নিশি সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেয়। সে রাত্রিতে ফেরেশতাগণ রুহুল কুদুস হজরত জিবরাইল (আ.) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা উদয় পর্যন্ত’ (সুরা-৯৭ কদর, আয়াত: ১-৫)। আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’–এর ফারসি হলো শবে কদর। অর্থ সম্মানিত মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত, সম্ভাবনাময়, ভাগ্যনির্ধারণী রজনী।
এক শ আসমানি সহিফা, চারখানা কিতাবসহ মোট এক শ চারটি কিতাবের মধ্যে কোরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। এই কিতাব নাজিল হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, নবীগণের ইমাম, রাসুলদের সরদার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি। এই কোরআনের স্পর্শ বড়ই সৌভাগ্যের। হজরত জিবরাইল (আ.) কোরআন বহন করেই ফেরেশতাদের সরদার হওয়ার গৌরব লাভ করেছেন। মরুর দেশ ‘জাজিরাতুল আরব’ এই কোরআনের স্পর্শেই পবিত্র আরব ভূমির সম্মান লাভ করেছে। অলক্ষুনে ও দুর্ভোগালয় খ্যাত ‘ইয়াসরিব’ এই কোরআনের বরকতেই পুণ্য ভূমি ‘মদিনা মুনাওয়ারা’র সম্মানে ধন্য হয়েছে। পাপের আকর শিরক ও কুফরের শীর্ষ তীর্থস্থান ‘বাক্কা’ এই কোরআনের কল্যাণে পবিত্র মক্কা নগরীতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই কোরআনের পরশে স্বল্পমূল্য কাপড়ের ‘গিলাফ’ বুকে জড়ানোর সম্মান পাচ্ছে। এই কোরআনের ছোঁয়ায় সাধারণ কাঠের ‘রেহাল’ সম্মানের চুমু পাচ্ছে। সর্বোপরি কোরআনের সংস্পর্শে একটি সাধারণ রাত ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবে কদর’ রজনীর সম্মানে বিভূষিত হয়েছে। কোরআনের সঙ্গে যাঁর যতটুকু সম্পর্ক ও সংস্পর্শ থাকবে, তিনি ততটুকু সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী হবেন। প্রিয় হাবিব (সা.) বলেন, ‘কোরআনওয়ালাই আল্লাহওয়ালা এবং তাঁর প্রিয় ব্যক্তি’ (বুখারি)। ‘যার অন্তরে কোরআনের সামান্যতম অংশও নেই, সে যেন এক বিরান বাড়ি’ (বুখারি ও মুসলিম)।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করো’ (মুসলিম)। এ রাতগুলো হলো ২১,২৩, ২৫,২৭ ও ২৯। আরবিতে দিনের আগে রাত গণনা করা হয়। অর্থাৎ ২০,২২, ২৪,২৬ ও ২৮ রমজান দিবাগত রাতসমূহ। মুফাসসিরিনে কিরাম বলেন, আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয়ে ৯টি হরফ বা বর্ণ রয়েছে; আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয় তিন তিনবার রয়েছে; ৯–কে ৩ দিয়ে গুণ করলে বা ৯–কে ৩ বার যোগ করলে ২৭ হয়, তাই ২৭ রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। (তাফসিরে মাজহারি)।
হজরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.) ! আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি বলবে, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা পছন্দ করেন; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। ”’ (ইবনে মাজা, অস-সিলসিলাতুস সহিহাহ, নাসিরুদ্দিন আলবানি)। সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে’ (বুখারি শরিফ, ইমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ২৫, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৯-৩০, হাদিস: ৩৪)।
শবে কদরের বিশেষ আমলসমূহ হলো নফল নামাজ-তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, ছলাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সলাতুল হাজাত, সলাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল ইত্যাদি পড়া। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুজ্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির, সুরা ইয়া-সিন, সুরা ত-হা, সুরা আর রহমান ও অন্যান্য ফজিলতের সুরা তিলাওয়াত করা; দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া; তাওবা ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা; দোয়া কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আসকার ইত্যাদি করা।
শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক 

ফেসবুকে বেশি বেশি লাইক ও কমেন্ট পাওয়ার উপায়।



সারকথাঃ লাইক পেতে চাওয়া খারাপ কিছু নয়। খারাপ হলো, লাইক পাওয়ার নেশায় পেয়ে বসা। এটাই মূল ভয়। বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমের ধারা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লাইক পাওয়ার এই আকাঙ্ক্ষা থেকে অনেকেই এমন অনেক কিছু করছেন, যা ঠিক নয়। যা হয়তো আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না। আবার যা তাঁর নিজের জন্য, সমাজের জন্যও ভুল বার্তা দেয়।
আবার এ-ও ঠিক, লাইকের মাপকাঠি দিয়ে এখন সবকিছু বিচার করার প্রবণতাও তৈরি হয়েছে। এক অভিনেতা যদি অন্য অভিনেতার থেকে বেশি লাইক পান তাঁর কোনো পোস্টে; তার মানেই এমন নয়, লাইক বেশি পাওয়া অভিনেতাটিই ভালো। কারণ, দেখা গেছে, লাইকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষটির পেশার যোগসূত্র থাকলেও সেটি তত বড় নয় যে তা মাপকাঠি হয়ে উঠতে পারে; বরং সামাজিক মাধ্যমে সেই ব্যক্তিটি কী পোস্ট দিচ্ছেন, সেটিই লাইকসংখ্যাকে প্রভাবিত করে।
লাইকের কারিগরি একটি দিকও আছে। ফেসবুক কীভাবে কোন তথ্য কার কাছে পৌঁছাবে, এর একটি প্রোগ্রাম করা থাকে। ফেসবুকের এই এলগরিদম নিয়ত পাল্টায়ও। যেমন ফেসবুক এখন চায় ভিডিও ও ছবিকে বেশি গুরুত্ব দিতে। এমন অনেক নেপথ্য কারিগরি দিক আছে, যা আমরা জানি না। আবার ফেসবুকে লাইক কেন মানুষ দেয়, এ নিয়ে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণাও কিন্তু হয়েছে।
স্ট্যাটাস বা পোস্টের ধরন
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষক-ফার্ম ‘কিসমেট্রিকস’-এর ফেসবুক নিয়ে গবেষণায় কিছু চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ফেসবুকে ছবি পোস্ট করলে সাধারণত ৫৩ শতাংশ বেশি লাইক পাওয়া যায়। ১০৪ শতাংশ কমেন্টস ও ৮৪ শতাংশ লাইক বেশি পাওয়া যায় ছবিভিত্তিক স্ট্যাটাসে। পোস্টে লেখার ব্যাপ্তি নিয়েও কিছু পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ন্যূনতম ৮০ শব্দের মধ্যে পোস্ট দিলে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ৬৬ শতাংশ সম্পৃক্ততা বাড়ে।
নিয়ম করে প্রতিদিন দু-একবার পোস্ট করলে ‘লাইক’-এর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়বে। তবে নিরপেক্ষ পোস্টে মানুষ লাইক কম দেয়। নেতিবাচক পোস্ট কিংবা মানবিক কোনো ব্যাপারে মানুষের লাইক দেওয়ার প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া সপ্তাহে ন্যূনতম এক থেকে চারবার পোস্ট করলে ৭১ শতাংশ বেশি সাড়া পাবেন বন্ধু কিংবা ফলোয়ারদের কাছ থেকে।
ফেসবুক ইদানীং ভিডিওকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আপনার মুঠোফোনটিকে ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফেসবুকের যেকোনো পোস্টের ক্ষেত্রে একটি সূত্র সব সময় মনে রাখবেন: কী পোস্ট করব, এটা একবার ভাবার সময় দশবার ভাববেন কী পোস্ট করব না।
চাই বুদ্ধির ঝিলিক
বিখ্যাত কেউ ফেসবুকে যা-ই পোস্ট করুক, তা ‘ভাইরাল’ হতে সময় লাগে না। কিন্তু আমজনতার ক্ষেত্রে এ কথা খাটে না। আম-আদমি থেকে নিজেকে আলাদা করতে হলে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে একটু বুদ্ধি দিয়ে।
১. ‘লাইক’ কথাটার গুরুত্ব বুঝে লাইক দিন। প্রচলিত ধারণা হলো, ফেসবুকে জনপ্রিয় হতে সব ধরনের পোস্টে লাইক দিয়ে যাওয়া। এতে নিজের অ্যাকাউন্টেও বেশি বেশি লাইক ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা দেখেন অনেকে। কিন্তু এটা একেবারেই ভুল ধারণা। অপ্রীতিকর, বিতর্কিত কোনো পেজ কিংবা কারও পোস্টে লাইক দিলে উল্টো আপনার অ্যাকাউন্টে লাইকের সংখ্যা কমতে পারে! কেননা, মানুষ তখন ভেবে নেবে আপনার ব্যক্তিত্ব কিংবা চিন্তাচেতনায় সমস্যা আছে।
২. ফেসবুক পোস্টের ক্ষেত্রে মনে রাখা উচিত, যেটা আপনার ভালো লাগছে, সেটা আরেকজনের ভালো না-ও লাগতে পারে। এ কারণে সবকিছুই ফেসবুকে পোস্ট করা ঠিক নয়। বিরক্তিকর নয়, ব্যতিক্রমী পোস্ট করুন। মানুষ ব্যতিক্রমী যেকোনো কিছুই পছন্দ করে। সেটা হতে পারে মজা, হাসি-কান্না কিংবা যেকোনো কিছু; শুধু ব্যতিক্রমী হতে হবে।
৩. মানুষ খবর পেতে ভালোবাসে, খবর দিতেও ভালোবাসে। এখন তো যেকোনো খবর সংবাদমাধ্যমের চেয়ে ফেসবুকেই আগে পাওয়া যায়। এ কারণে বিশ্বস্ত সূত্রের নানা ধরনের খবর শেয়ার দিন। পাশাপাশি খবর নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মতামতও লিখুন। এতে মানুষ আপনাকে আলাদা করে চিনবে, গুরুত্ব দেবে। লিখতে পারেন সাম্প্রতিক আলোচিত যেকোনো বিষয় নিয়ে। সেটা হতে পারে খেলা, রাজনীতি, সংস্কৃতি কিংবা বিনোদন জগৎ নিয়ে। তবে সামাজিক যেকোনো সমস্যা নিয়ে লেখা মানুষ পছন্দ করে।
৪. বিশেষ দিনকে বিশেষভাবে ব্যবহার করুন। ধরুন, আপনার বন্ধুর জন্মদিন। এমনিতে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তো জানাবেনই, পারলে তাঁকে নিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু করুন। আপনার বন্ধুর জন্মদিনে কোন কোন বিখ্যাত মানুষ জন্মেছে, তা খুঁজে বের করে মজার কিছু লিখতে পারেন। মনে রাখবেন, ফেসবুকে সৃজনশীলতার আলাদা কদর আছে।

শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৮

Degree Admission Form 2017-18

এখনতো নিশ্চই ডিগ্রী এডমিশন ফরম পাবলিশ সম্বন্ধে জেনে গিয়েছেন।
আপনাদের সুবিধার্থে আমার ড্রাইভের Admission Form এর PDF লিংকটিও শেয়ার করছি।

দয়াকরে দেখে নিন।

এখানে আলতো স্পর্শ করুন।

মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭

আপনার ব্লগে থিম আপলোড করতে চাই? তবে দেখেনিন! তারাতারি! কাজ পরে।

আমি দেখাব ব্লগে theme upload করা হয়।
আপনার chrome browser দিয়ে ঢুকুন
প্রথমে আপনার যে website এ upload করবেন। সেই website যে gmail দিয়ে খোলা তা দিয়ে login করুন।
তারপর
Blogger
Theme এ চাপ দেন
সবার উপরে ডান পাশে backup & rectore click করেন
তারপর choose এ
তারপর ফোন থেকে file select করুন
upload করুন
হয়ে গেছে
যদি theme লাগে তাহলে বলিয়েন upload দিয়ে দিব।
অনেক কস্ট করে করলাম না বুঝলে গালাগালি না করে কমেন্ট কর।মানুষ মাত্রই ভুল। ভুল হলে ধরিয়ে দিন

কি!! HoT pOsT template বসাতে চাই? হ্যা,আপনার জন্যই!

মহান রাব্বুলআলামিন আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি গুন শুক্রিয়া জ্ঞাপন করছি,
পুর্ণ সুস্থতা সহকারে আপনাদের সম্মুখে গুরুত্বপুর্ণ টিউন নিয়ে উপস্থিত হতে পারার জন্য।

যাদের সাইটে Hot Post টেম্পলেট নেই বা কাজ করেনা তারা এখন Hot Post টেম্পলেট বসিয়ে নিন।
নিচের কোড গুলো কপি করে index.php এ Featured Post এর নিচে বা যেখানে ইচ্ছা বসিয়ে দিন।
.
.
Hot Post template code:
<div class=”block_posts”><h2>Hot posts</h2><ul class=”rpul”>
<?php $args = array(
‘date_query’ => array( array( ‘after’ => ‘-5 days’ ) ),
‘post_type’ => ‘post’,
‘posts_per_page’ => 4,
‘meta_key’ => ‘post_views_count’,
‘orderby’ => ‘meta_value_num’,
‘order’ => ‘DESC’);
$the_query = new WP_Query( $args );
if ($the_query->have_posts()) : while ($the_query->have_posts()) : $the_query->the_post(); ?>
<li><?php $thumbnail = get_template_directory_uri().”/img/no-image.png”;
if ( has_post_thumbnail() ) {
the_post_thumbnail(‘featured’,array(“class” => “featured_image”));
} else {
echo ‘<img width=”60″ height=”60″ src=’.$thumbnail.’ class=”featured_image” alt=”noimage” />’;
} ?>
<a href=”<?php the_permalink(); ?>” title=”<?php the_title(); ?>”><?php the_title(); ?></a>
<p><?php the_time(‘M j, Y’); ?> | <?php comments_popup_link( ‘No Comments’ , ‘1 Comment’ , ‘% Comments’ ); ?> | <?php echo getPostViews(get_the_ID()); ?></p>
</li>
<?php
endwhile;
else : get_template_part(‘post’, ‘noresults’);
endif; ?> <?php wp_reset_query(); ?>
</ul>
</div>
.
.
এইটুকু শেষ হলে পরে আপনার থিম এর Function.php তে যান। সেখানে পোস্ট ভিও কাউন্ট নামের কোনো ফাংশন আছে কিনা। থাকলে আর কিছু করতে হবেনা।
আর না থাকলে নিচের কোডগুলো বসিয়ে দিন।
Post view counter code:
/* View Count */
function getPostViews( $postID ){
$count_key = ‘post_views_count’ ;
$count = get_post_meta ( $postID , $count_key , true );
if ($count ==”){
delete_post_meta ( $postID , $count_key );
add_post_meta ($postID , $count_key, ‘0’ );
return “0 View” ;
}
return $count .’ Views’ ;
}
function setPostViews ( $postID ) {
$count_key = ‘post_views_count’ ;
$count = get_post_meta ( $postID , $count_key , true );
if ($count ==”){
$count = 0 ;
delete_post_meta ( $postID , $count_key );
add_post_meta ($postID , $count_key, ‘0’ );
} else{
$count ++;
update_post_meta ($postID , $count_key , $count );
} }
.
.
Hot Post টেম্পলেট টির css ট্রিকবডি থিম এই আছে। না থাকলে ইচ্ছে মতে কাস্টমাইজড করে নিন।
.
.
ভালো থাকবেন।।

কি!! চিন্তা করতেছেন,আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কোন হোস্টিং বা ডোমেইন সেটাপ দেব! এর দামইবা কেমন হবে!! তবে আপনার জন্যই।

মহান রাব্বুলআলামিন আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি গুন শুক্রিয়া জ্ঞাপন করছি,
পুর্ণ সুস্থতা সহকারে আপনাদের সম্মুখে গুরুত্বপুর্ণ টিউন নিয়ে উপস্থিত হতে পারার জন্য।

হোস্টিং এবং ডোমেইন নিয়ে ঝামেলায় পড়েননি এরকম অনলাইন প্রফেশনাল খুঁজে পাওয়া দুস্কর। বিশেষ করে যারা একদম নতুন ভাবে অনলাইনে এফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের সমস্যাটাই বেশি হয়।
এই লিখাটা তাদের জন্যই যারা একদম নতুন অথবা চিন্তা করে বেড়াচ্ছেন বাজেট সল্পতার মধ্যে কোন হোস্টিংটি কিনলে আপনার টাকাটা জলে যাবে না।
ফ্রী-হোস্টিং
ফ্রী হোস্টিং এর কথা প্রথমেই তুলে আনলাম এই কারনে যে আমরা বলতে গেলে সবাই – প্রথম দিকে চেষ্টা করে থাকি একটা ফ্রী হোস্টিং এ আমাদের সাইট বানানোর। অনেকেই তার সাথে একটা ডোমেইন কিনে থাকেন, অনেকেই আবার শুধুমাত্র ফ্রী সাব-ডোমেইন নিয়েই কাজ করেন।
যাই করে থাকুন না কেন আগে, এখন থেকে জেনে রাখুন – ফ্রী হোস্টিং বলতে আদতে কিছু নাই। যে সকল ফ্রী হোস্টিং আমরা মার্কেটে দেখতে পাই তারা আসলে কোন পেইড হোস্টিং এর স্যাম্পল বা মার্কেটিং এর জন্য তৈরি করা হয়েছে। বেশিরভাগ ফ্রী হোস্টিং আপনাকে এডভারটাইজমেন্ট দেখাবে অথবা খুব বেশীদিন আপনাকে সাইট হোস্ট করতে দেবে না।
আমি নিজেই এর ভুক্তভোগি ছিলাম একসময়। অনেকদিন হোস্ট করার পরে একদিন সকালে উঠে দেখি আমার ব্লগ আর নাই। তারা একাউন্ট ব্যান করে দিয়েছে। তাদের কোন ধরনের টার্ম এন্ড রুলস মনে হয় আমার ব্লগের সাথে যায়নি, তাই বিনা নোটিশে একাউন্ট ব্যান।
ফ্রি হোস্টিং এর আরেকটা বড় সমস্যা হল এর রিসোর্স লিমিটেড এবং আপনাকে খুব বেশি ব্যান্ডউইথ তারা দেবে না।
এত কথা বলার একটাই কারন, পারলে ফ্রী হোস্টিং থেকে দূরে থাকুন। এরা আপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়, আপনি আশানুরুপ সাপোর্ট ও পাবেন না।
তারপরেও যারা প্র্যাক্টিসের জন্যে ফ্রি হোস্টিং খুঁজছেন তাদের জন্য আমার ব্যবহার করা তিনটা ফ্রী হোস্টিং এর কথা বলি-
০১. ব্লগার বা ব্লগস্পট (Blogger.com)
বেশ অনেকদিন আমি ব্লগস্পটে সাইট হোস্ট করেছিলাম। এই সার্ভিসটি গুগলের। কাজেই এই হোস্টিং এর স্পীড এবং আপটাইম নিয়ে কোন সমস্যায় পড়তে হবে না। এখানে আপনি যত খুশি ব্লগ বানাতে পারবেন।
আমার মনে হয় প্রায় সবাই এর কথা জানেন। আপনার একটি ফ্রী জিমেইল একাউন্ট থাকলেই আপনি ব্লগারে একটি একাউন্ট খুলতে পারবেন। একটা একাউন্টের আওতায় আনলিমিটেড ব্লগ খোলা যায়।
ব্লগারে গুগলের ফ্রি হোস্টিং
সুবিধাঃ
০১. গুগলের হোস্ট করা কাজেই সাইটের স্পীড এবং আপটাইম নিয়ে কোন সমস্যায় পড়বেন না।
০২. যত খুশি ব্লগ খোলা যাবে।
০৩. প্রতিটি ব্লগের জন্য আলাদা সাবডোমেইন পাবেন, চাইলে নিজের .com/.net/.info ইত্যাদি ডোমেইন লাগাতে পারবেন।
০৪. এডসেন্স এবং গুগল এনালিটিক্স খুব সহজেই ইমপ্লিমেন্ট করা যায়।
অসুবিধাঃ
০১. এটি ফ্রি – কাজেই গুগল যেকোন সময় আপনার ব্লগটি ব্যান করে দিতে পারে।
০২. সাপোর্ট খুবই অল্প পরিমানে পাবেন, তবে এক্টিভ কমিউনিট আছে।
০৩. নিজস্ব ব্লগ টেমপ্লেট বা ডিজাইনের পরিমান খুবই কম। একটু এক্সপার্ট না হলে আপনি কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন না।
আপনি একটু খুঁজলেই অনেক প্রিমিয়াম টেমপ্লেট ডিজাইন পাবেন মার্কেটে, কিন্তু আপনাকে তা কিনতে হবে।
০২. ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম (WordPres s.com)
আমার মতে এটিই হওয়া উচিত বেস্ট ফ্রি হোস্টিং। যারা ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ করবেন বা এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং এর সাথে যুক্ত হবেন তাদের জন্য প্র্যাক্টিসের একটি আদর্শ জায়গা।
ব্লগ খোলার জন্যে আপনাকে একটি ওয়ার্ডপ্রেস ডট কমের একাউন্ট খুলতে হবে, এটি ফ্রি।আপনার ব্লগের জন্যে wordpress .com এর একটি সাবডমেইন দেয়া হবে আপনাকে।
ওয়ার্ডপ্রেস ডট কমের ড্যাশ বোর্ড
আপনি যখন আপনার নিজস্ব হোস্টিং এবং ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন তখনও আপনার এই আকাউন্টটি কাজে লাগবে।
সুবিধাঃ
০১. ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য অপ্টিমাইজ হোস্টিং, এর আপটাইম এবং স্পীড এর সাথে পাল্লা দেয়ার মত ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং খুব কমই আছে।
০২. যারা ভবিষ্যতে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ করবেন তাদের প্র্যাক্টিস করার আদর্শ জায়গা।
০৩. আনলিমিটেড ব্লগ খুলতে পারবেন।
০৪. চাইলে নিজস্ব ডোমেইন আপনার ব্লগের সাথে লাগাতে পারবেন। এমকি একটা ব্লগে একাধিক ডোমেইন ও লাগানো যায়।
অসুবিধাঃ
০১. ফ্রী ব্লগের হোস্টিং সিমাবদ্ধ, মাত্র ৩ গিগাবাইট।
০২. সাপোর্ট শুধুমাত্র কমিউনিটিতেই পাবেন।
০৩. ইচ্ছেমত প্লাগিন এবং থিম ইন্সটল করতে পারবেন না।
০৪. চাইলেই আপনার এডভারটাইজমেন্ট বা এফিলিয়েট লিঙ্ক লাগাতে পারবেন না।
০৫. আপনার ব্লগ নিয়মের বিরুদ্ধে গেলে বিনা নোটিশে ব্যান করা হবে।
০৬. ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম থেকে ডোমেইন কিনতে গেলে আপনার একটু বেশি খরচ করতে হবে। সাধারন ভাবে যেখানে আপনি ১০-১১ ডলারে একটী ডোমেইন কিনতে পারবেন সেখানে তারা ১৮ ডলার নেবে একটা ডোমেইন কেনার জন্য।
ওয়ার্ডপ্রেস ডট কমে ডোমেইন এর দাম
অলরেডি যদি আপনার একটা টপ লেভেল ডোমেইন থেকেও থাকে তবে তা আপনার ব্লগের সাথে কানেক্ট করতে গেলেও আপনাকে গুনতে হবে ১৩ ডলার। আগেই বলেছি ফ্রি মানেই কিন্তু ফ্রি নয়।
তবে এই টাকায় আপিনি যে সার্ভিস পাবেন তা আর কেউ দিতে পারবে না। ওয়ার্ডপ্রেসের প্রাইসিং প্লানটায় একটু চোখ বুলান যদি আপনি তাদের পেইড হোস্টিং ব্যবহার করতে চান।
ওয়ার্ডপ্রেসের প্রিমিয়াম হোস্টিং চার্জ
কাজেই দেখতে পারছেন ফ্রি এবং প্রিমিয়াম হোস্টিং এর মধ্যের তফাত।
আমার সাজেশন হল – আপনি এই দামে নিজের হোস্টিং এবং ডোমেইন কিনতে পারবেন।
০৩. বাইট হোস্টের সি প্যানেল (byteh os ting)
অনেক আগে আমি বাইট হোস্টের ফ্রি সি-প্যানেল হোস্টিং ব্যবহার করতাম। খুবই লিমিটেড পরিসরে সেটা ছিল একটা দুর্দান্ত এক্সপিরিয়েন্স। যারা নিজেই নিজের ব্লগ ইন্সটল করতে চান এবং দেখতে চান পেইড হোস্টিং কি রকম হতে পারে, এটি তাদের জন্য একটা ডেমো হিসেবে কাজ করবে।
ফ্রি সি প্যানেল হোস্টিং – বাইট হোস্ট
এটি আসলে তাদের পেইড হোস্টিং সেল করার জন্য একটা মার্কেটিং পন্থা। কিন্তু আমদের দরকার এনভাইরনমেন্ট বোঝা কিভাবে একটা হোস্টিং কাজ করে। খুব সহজেই আপনি একটা হোস্টিং রেজিস্টার করে তাদের দেয়া সাবডোমেইন ব্যবহার করে তা জানতে পারছেন।
এই হোস্টিং আপনাকে ১ গিগাবাইট জায়গা এবং ৫০ গিগাবাইট ডাটা ট্রান্সফার/মাসে ফ্রিতে দেবে।
সুবিধাঃ
০১. ফ্রি হোস্টিং যেখানে আপনি FTP, Database এবং সফটওয়ার ইন্সটল করতে পারছেন।
০২. যদি ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে থাকেন তবে নিজের ইচ্ছামত থিম এবং প্লাগিন ইন্সটল করতে পারবেন।
০৩. ওপেনসোর্স প্রায় সব সফটওয়ার পাবেন অটো ইন্সটলেশনে।
অসুবিধাঃ
০১. হোস্টিং বেশ ধীর গতির এবং আপঅটাইম ও ভালো না।
০২. একাউন্ট ব্যান হতে পারে বিনা নোটিশে।
০৩. হোস্টিং রিলেটেড যেকোন ইস্যুতে সাপোর্ট পাবেন না।
ঠিক এইরকম আরেকটি হোস্টিং আছে যারা ফ্রিতে ভিসতা প্যানেল দিয়ে হোস্ট করে থাকেঃ 000space.com . এরা বাইট হোস্টের মত হলেও তার থেকে বেশি জায়গা এবং ব্যান্ডউইডথ দিয়ে থাকে। তবে এদের সি-প্যানেল দেখতে একটু আলাদা রকমের। এক নজরে এদের ফিচার গুলো দেখে নিন।
ফ্রি ভিস্তা প্যানেল হোস্টিং
মার্কেটে এরা বাদেও আরো প্রচুর ফ্রি হোস্টিং প্রোভাইডার আছে। একটা ব্যপার বেশ ভালো করে মনে রাখা দরকারঃ –
ফ্রি হোস্টিং কখনই পেইড হোস্টিং এর সমতুল্য নয়
পেইড হোস্টিং
ফ্রির কথা বাদ দেই, আসুন পেইড হোস্টিং নিয়ে কিছু কথা বলা যাক।
যখনই আপনি প্রফেশনাল ভাবে ব্লগিং অথবা এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাইবেন অথবা আপনার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট বানাবেন, আপনার প্রয়োজন একটি ভালো মানের হোস্টিং।
হোস্টিং সম্পুর্ন ভাবে নির্ভর করে আপনার বাজেট এবং কি ধরনের সাইট আপনি বানাবেন তার উপর। আমি আজকে কয়েকটি শেয়ার্ড হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করব। এফিলিয়েট সাইট এবং মাঝারি মানের সাইট এর জন্য এই ধরনের হোস্টিং বেশ ভাল কাজে দেয়।
মার্কেটে আছে দামের ভিন্নতা এবং কোয়ালিটিতে পার্থক্য। আমার মনে আছে ২০০৫ সালের দিকের কথা, যখন অনলাইনে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট করাটা আমার কাছেও একটা কঠিন ব্যাপার ছিল, তখন আমি বাংলাদেশের এক প্রোভাইডারের কাছ থেকে হোস্টিং কিনেছিলাম। তারা কোন ধরনের সাপোর্ট দিত না এবং একবছর পরে আমার সাইট কোন ধরনের ব্যাক আপ বাদেই গায়েব হয়ে যায়।
অনেক চেষ্টা করেও তা আমি উদ্ধার করতে পারিনি। সেই থেকে আমি আর কখন বাংলাদেশি প্রোভাইডারদের থেকে হোস্টিং কিনিনি।
২০১৫ সালে এসে কিন্তু আমি দেখেছে আমাদের দেশেই অনেক ভালো ভালো মানের হোস্টিং বেচা কেনার সাইট হয়েছে। যদিও আমার সৌভাগ্য হয়নি তাদের সার্ভিস রিভিউ করার। আপনারা কেউ ব্যবহার করে থাকলে জানাতে ভুলবেন না।
এই সকল কারনে আমি নিজের ক্লায়েন্ট এবং পরিচিতদের জন্য ছোট্ট পরিসরে একটা রিসেলার হোস্টিং নিয়ে ২০১৩ এর দিকে নিজেই US হোস্টিং সেল শুরু করেছি । আসুন দেখে নেয়া যাক পরিচিত কিছু হোস্টিং যা আপনি আপনার স্বল্প বাজেটের মধ্যে কিনতে পারেন।
০১. জাস্ট হোস্ট (Just Host)
শেয়ার্ড হোস্টিং এনভাইরন্মেন্টে জাস্ট হোস্ট অনেক কম দামে আপনাকে হোস্টিং দেবে। প্রথম দিকে তারা সব কিছু আনলিমিটেড বললেও এখন আর সেরকম দিচ্ছে না। আপনি যত লম্বা সময়ের জন্য হোস্টিং কিনবেন আপনার তত বেশি টাকা বাঁচবে।
জাস্ট হোস্ট
সুবিধাঃ
০১. কেনার সময় বেশি ২-৩ বছরের জন্য কিনলে অনেক কম দাম পড়বে।
০২. তিন ধরনের প্যাকেজ বিদ্যমান Basic, Plus এবং Pro. আপনার পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারছেন।
০৩. মানি ব্যাক গ্যারান্টি আছে, যদি হোস্টিং আপনার পছন্দ না হয়।
০৪. একটা ফ্রী ডোমেইন পাবেন ইয়ারলি প্যাকেজের সাথে।
অসুবিধাঃ
০১. সার্ভার স্লো থাকে অনেক সময় এবং ডাউন টাইম প্রচুর। লম্বা সময় ধরে না হলেও বার বার এই জিনিস বিরক্তিকর।
০২. পেমেন্ট সিস্টেম বাংলাদেশ থেকে পেপাল এবং আপনাকে পেমেন্ট প্রুফ দিতে হবে।
০৩. পেওনিয়ার কার্ড দিয়ে কিনতে গেলে নাও পারতে পারেন এবং প্রচুর ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।
০৪. লাইভ সাপোর্টের দেখা পেতে ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
একনজরে তাদের প্রাইসিং প্লানঃ –
জাস্ট হোস্টের প্রাইসিং প্লান
টেস্ট করার জন্য বেসিক প্লান দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চাইলে পরে আপগ্রেড করতে পারবেন।
০২. হোস্ট মন্সটার (Host Mosnter)
হোস্ট মন্সটারে দাম জাস্ট হোস্ট থেকে কিছু বেশি। এদের সার্ভিস খুব একটা খারাপ না। তবে আমার ক্লায়েন্টের বেশ কিছু সাইট হ্যাক হবার পর আমরা আর এদের সার্ভিস ব্যবহার করছি না। একনজরে এদের প্রাইসিং প্লানঃ-
হোস্ট মন্সটারের প্রাইসিং প্লান
মান্থলি প্রাইস বেশি হলেও আপনি জাস্ট হোস্টের থেকে বেশি স্পেস পাচ্ছেন এখানে। তবে ৫০০০ টাকার থেকেও কমে আপনি সারা বছরের জন্য নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।
সুবিধাঃ
০১. পারসোনাল বা সাধারন অফিসিয়াল সাইটের জন্য বেশ ভালো
০২. সার্ভার মোটামুটি ভাবে ফাস্ট।
০৩. যদি অনেক গুলো এফিলিয়েট সাইট করতে চান তবে এদের প্রো সার্ভিস নিয়ে দেখতে পারেন।
০৪. ৩০ দিনের মানি ব্যাক গ্যারান্টি আছে।
০৫. বাতসরিক প্যাকেজের সাথে ১ টা ফ্রি ডোমেইন পাবেন।
অসুবিধাঃ
০১. লাইভ সাপোর্ট খুবিই দুর্বল।
০২. যদি নিজের সাইট নিজে ব্যাকআপ না রাখেন তবে ঝামেলায় পড়তে পারেন।
০৩. হোস্ট গেটর (Host Gator)
হোস্ট গেটরের সার্ভিস আমি প্রায় ২ বছর ব্যবহার করেছি কোন ধরনের সমস্যা বাদেই। শেয়ার্ড হোস্টিং এর মধ্যে আমার কাছে হোস্ট গেটরকেই বেস্ট বলে মনে হোত। কিন্তু EIG ( Endurance International Group) কোম্পানী কিনে নেয়ার পর থেকেই তাদের সার্ভিস এবং সাপোর্ট কোয়ালিটি কমতে থাকে এবং আমিও একসময় বাধ্য হই সাইট মুভ করার।
তারপরেও যারা নতুন ভাবে শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য কম দামে একটা বেশ ভালো হোস্টিং হতে পারে এটি। একনজরে তাদের বর্তমান প্রাইসিং প্লানঃ –
হোস্ট গেটরের প্রাইসিং চার্ট
এখানেও দেখতে পারছেন অনেক বেশি দিনের জন্য কিনলে আপনার লাভ।
সুবিধাঃ
০১. মোটামুটি মানের ভারি সাইট হলেও এদের শেয়ার্ড হোস্টিং এ আপনি তা চালাতে পারেন।
০২. ডাউনটাইম খুব সাম্প্রতিক কিছুটা কমেছে।
০৩. রেগুলার ব্যাকআপ নেবার সুবিধা আছে।
০৪. আপনার যেকোন একটি সাইট এরা ফ্রিতে ট্রান্সফার করে দেবে।
০৫. সি-প্যানেল দেখতে অনেক সাজানো এবং কার্যকর।
অসুবিধাঃ
০১. হোস্টিং এর দাম অন্যদের তুলনায় একটু বেশি।
০২. সাপোর্ট অনেক দীর্ঘ সময় নেয়, আর লাইভ সাপোর্ট খুবই দুর্বল।
০৩. সার্ভার স্পীড আগের থেকে অনেক খারাপ হয়ে গেছে।
এছাড়াও খুব সাম্প্রতিক তারা ক্লাউড হোস্টিং সার্ভিস চালু করেছে। যারা আপটাইম বা সার্ভার রিসোর্সেস নিয়ে চিন্তিত তারা হোস্ট গেটরের ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
০৪. ব্লু হোস্ট (Blue H ost)
শেয়ার্ড হোস্টিং এর মধ্যে আমি বর্তমানে ব্লু হোস্টকেই প্রাধান্য দেই বেশি। গত একবছরে এদের আপ্টাইম এবং সার্ভার স্পিড আমার বেশ ভালো লেগেছে। চলুন দেখে নেয়া যাক এদের প্রাইসিং প্লানঃ
ব্লু হোস্টিং এর দাম দর
সুবিধাঃ
০১. আপটাইম ভালো
০২. বিশেষ করে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্ট করার জন্য আদর্শ হতে পারে।
০৩. দাম তুলনামুলক ভাবে অনেক কম
অসুবিধাঃ
০১. সাপোর্ট খুবই দুর্বল।
০২. নিজের সাইট ব্যাকআপ নিজেকেই রাখতে হবে। হ্যাক হয়ে গেলে বা অন্য কোন কারনে এদের আপনি খঁজে পাবেন না।
০৩. সি-প্যানেল দেখতে জাস্ট হোস্টের মত এবং কিছুটা ঝামেলার।
০৪. আপনার FTP মাঝে মাঝেই ঝামেলা করতে পারে।
ব্লু হোস্ট এর ক্লাউড হোস্টিং এবং স্পেশালাইজড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং আছে। কাজেই আপনার এফিলিয়েট সাইট বানানোর জন্য আদর্শ হতে পারে। Blue Hosting নিয়ে আমার একটা আলাদা রিভিউ আছে চাইলে পড়তে পারেন।
যেকোন হোস্টিং ই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন আপনার ব্লগিং বা এফিলিয়েট সাইটের জন্য। তবে আমি যে দুটো জিনিস সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেই তা হলঃ-
০১. সার্ভারের আপটাইম এবং
০২. সাপোর্ট
সাপোর্ট যদি ভালো না হয় এবং আপনাকে ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করতে হয় তাদের দেখা পবার জন্য তবে সেখান থেকে হোস্টিং না কেনাই ভালো। উপরের ৪ টি হোস্টিং এর প্রতিটিই বর্তমানে EIG এর অধীনে। কাজেই তারা মোটামুটি একি ধরনের অফার এবং সার্ভিস দিয়ে থাকে।
আপনি যদি নিজে ডেভেলপার হয়ে থাকেন তবে অনেক ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন এবং আপনাকে সাপোর্টের পিছনে দৌড়াতে হবে না।
০৫. নেইমচিপ (Name ch eap Hosting)
সাপোর্টের দিক থেকে আমি বর্তমানে সব থেকে ভালোবাসি নেইমচিপ ( N a mec hea p.com ) হোস্টিং কে। মূলত ডোমেইন রেজিস্টার হিসেবে ব্যবসা শুরু করলেও তারা এখন হোস্টিং এও অনেক এগিয়ে গেছে। দিনে দিনে তাদের হোস্টিং এর বয়সও অনেক হোল।
এখনে মাত্র ১০ ডলারের বিনিময়ে আপনি প্রথম বছর হোস্টিং করতে পারবেন।
নেইমচিপ হোস্টিং প্রাইস
সুবিধাঃ
০১. হোস্টিং এর দাম অনেক কম অন্যদের তুলনায়।
০২. আপনি পেওনিয়ার কার্ড, পেপাল, মাস্টারকার্ড কিংবা গুগল চেকাআউট দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবেন।
০৩. বেটার সাপোর্ট সিস্টেম।
০৪. আপটাইম এবং সার্ভার স্পিড অনেক ভালো।
অসুবিধাঃ
খুব একটা খুঁজে পাইনি। সাইট অনেক বড় হলে বা অনেক রিসোর্স ব্যবহার করলে ডাউন থাকতে পারে। তবে সেক্ষত্রে আপনার দরকার আরো ভালো প্যাকেজে আপগ্রেড করা।
গুনগত মান এবং দামের বিচারে আমি সাজেস্ট করব চোখ বন্ধ করে নেইমচিপের হোস্টিং ব্যবহার করার জন্য। আমি অনেক বছর যাবত এদের কাস্টমার এবং নেইমচিপের সার্ভিসে আমি এখনও পর্যন্ত সন্তুষ্ট।
যেই হোস্টিং ই কিনতে যান না কেন, আগে গুগলে একটু সার্চ করে দেখে নেবেন তাদের কোন ডিস্কাউন্ট কুপন আছে নাকি। কুপন ব্যবহার করলে বেঁচে যেতে পারে আপনার অনেক গুলো টাকা।
আরো কিছু কথাঃ-
যাদের অনেক বড় সাইট হবে তারা ডেডিকেটেড বা VP S হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন। আমি পারসোনালি Digital Ocean কে পছন্দ করি। এদের দাম এবং সার্ভার আপটাইম ভালো।
জ্বী, মার্কেটে ভালো ভালো আরো অনেক শেয়ার্ড হোস্টিং সার্ভিস আছে, কিন্তু এখানে যেগুলো দিয়েছি তা আমি পারসোনালি ব্যবহার করেছি অথবা এখনো করছি।
হোস্টিং এবং ডোমেইন এক জায়গা থেকে কিনলে কোন সমস্যা নেই। আমার আছে অনেক বছর ধরে।
VPS হোস্টিং ব্যবহার করলে তার টেকনিক্যাল জ্ঞান আপনার থাকতে হবে। ওটা Managed সার্ভার না। আপনি ওখানে সি-প্যানেল ফ্রিতে পাবেন না।
প্রথম বছর বা প্রথমবার যে দামে হোস্টিং কিনবেন, আপনার Renewal Price বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার থেকে বেশি হবে। অধিকাংশ হোস্টই আপনাকে প্রথম বছর ছাড় দিয়ে থাকে।
ডোমেইন কোথা থেকে কিনব?
ডোমেইন আপনি দেশি বিদেশি যেকোন সার্ভিস সেলারের কাছ থেকে কিনতে পারেন। তবে সব সেলারই কিন্তু আপনাকে দাম এবং ডোমেইন প্যানেল একরকম দেবে না।
আমার পারসোনাল চয়েজ সর্বদা থাকে নেইপচিপ থেকে ডোমেইন কেনার। এদের ডোমেইন প্যানেল অসম্ভব রকমের সুন্দর ভাবে সাজানো এবং প্রচুর সার্ভিস আছে। ফ্রি তে আপনি প্রথম বছরের Whois Gaurd পাবেন।
Godaddy.com থেকে ডোমেইন কিনলে আপনি আরো কিছু কমে কিনতে পারবেন, কিন্তু রিনিউয়াল চার্জ কিন্তু একই থাকবে না। আমি গো-ড্যাডি পছন্দ করি না যে কারনে – এদের ডোমেইন প্যানেল লোড হতে অনেক সময় নেয় এবং পেপাল বাদে আমাদের দেশ থেকে সাধারনের জন্য পেমেন্টের আর কোন ওয়ে নাই।
নেইমচিপ থেকে আপনি সরাসরি আপনার পেওনিয়ার কার্ড দিয়েই সব কিছু কিনতে পারবেন।
একটা বুদ্ধি হোল – গো-ড্যাডি থেকে ১ বা ২ বছরের জন্য ডোমেইন কিনে এরপর তা নেইমচিপে মুভ করে নেয়া। এতে আপনার কিছু টাকা বাঁচবে। নেইমচিপ অনেক সময় মাত্র ১ ডলারে ডোমেইন মুভ করার অফার দিয়ে থাকে। এই ১ ডলারের বিনিময়ে ডোমেইন মুভ করার পরে আপনার ডমেইনে আরো একবছর মেয়াদ যুক্ত হয়ে যাবে।
বাংলাদেশি রিসেলারের কাছ থেকে ২০০৫ এর পর আর কোন ডোমেইন কিনিনি তাই তাদের সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে পারছি না।
অনেকেই গো-ড্যাডি থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে বেশ ভালো বলেছেন কিন্তু গো-ড্যাডির হোস্টিং নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা ভালো না।
এখানে আমি খুব বিস্তারিত ভাবে কোন হোস্টিং নিয়েই বলতে পারিনি, লিঙ্ক দিয়ে দিয়েছি, যাচাই বাছাইয়ের দায়ীত্ব আপনার নিজের।
আপনার প্রশ্ন এবং মুল্যবান মতামত জানলে হয়ত আমি এখানে আরো অনেক কিছু সংযুক্ত করতে পারব।